বীরগঞ্জে দানিয়ূল হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কৃষক দানিয়ূল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে ক্লুলেস হিসেবে বিবেচিত এই মামলাটি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়েছে। মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএম-এর নির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে ডিবি ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালায়। প্রযুক্তিগত নজরদারিতে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায় শনাক্ত হয়।
৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিবির একটি টিম খুলনা ও বাগেরহাটে অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম দফায় কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও এক অভিযুক্তের ভাড়া বাসা থেকে একটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে আরেকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বীরগঞ্জ থানার মামলা নং–১২ (তাং: ১৩/১২/২০২৫)–এর সূত্র ধরে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬)–কে র্যাব–৬ এর সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী থেকে মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং বীরগঞ্জের আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১)–কে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে—শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া পরিকল্পিতভাবে আবু বক্করকে ভাড়া করেন এবং অর্থের বিনিময়ে পেশাদার অপরাধীদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ব্যবস্থা করেন। পূর্বপরিচিতি ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে ভোররাতে দানিয়ূলের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করা হয়। শাহ আলম কল্লোল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত দানিয়ূল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ ভোরে নিজ শয়নকক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শুরু থেকেই ঘটনাটি রহস্যজনক ছিল। গ্রেফতারকৃত আবু বক্করের তথ্য অনুযায়ী দানিয়ূলের বাসার তালাচাবি তার বাড়ির সামনে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন