কুড়িগ্রামে পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বি-মুখী আলিম মাদরাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে একাধিক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, একই পরিবারের অন্তত চারজনকে প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন চৌধুরী জানান, মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী আব্দুল মজিদ বিপুল অর্থের বিনিময়ে নিজে অফিস সহকারী পদে এবং একই পরিবারের আরও ৪ জনসহ মোট ৬ জনকে নিয়োগ দেন। তিনি আরও জানান, আব্দুল মজিদ দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবেও প্রভাব খাটিয়ে এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিভাবক সদস্য খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য হয়েও এসব নিয়োগ কবে ও কীভাবে হলো কিছুই জানি না।” তিনি দাবি করেন, আব্দুল মজিদ নিজ মেয়েকে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হিসাবরক্ষক পদে চাকরি দিচ্ছেন এবং ভাতিজাকে ১২ লক্ষ টাকায় সরকারি হিসাবপদে নিয়োগ দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে শাহ আলম জানান, একইভাবে ভাতিজার স্ত্রী সোমা আক্তারকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পদেও ১৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আহাম্মদ আলীর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, আহাম্মদ আলী সাবেক সরকারের সময় বিভিন্নভাবে অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং গত সংসদ নির্বাচনে অনিয়মিত ভোটগ্রহণেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উলিপুরের হরিফিয়া দাখিল মাদ্রাসায়ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম চলছে বলে দাবি করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইলিয়াছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আব্দুল ওয়াহিদ জানান, “নিয়োগ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, এবং আমি ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্যও নই।”
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন