তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকরী পদক্ষেপ চায় তিস্তা পাড়ের মানুষ
তিস্তা পাড়ের মানুষ প্রত্যাশা পুরনে নতুন সরকারের কাছে আশ্বাস নয়,এবার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকরি পদক্ষেপ দেখতে চায়।
নির্বাচন আসলে তিস্তা পাড়ের মানুষদের ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ শুরু অনেক পুরনো,তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়া হয় বার বার, ভোট শেষে তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়।এভাবেই কয়েক দশক ধরে প্রতারিত হচ্ছে তিস্তা পাড়ের মানুষ,এবার অন্তত ব্যাতিক্রম হবে এমন প্রত্যাশায় জেলার তিনটি সংসদীয় আসন নতুন সরকার কে উপহার দিয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষ এবার তাই প্রতিশ্রুতি নয় কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় নতুন সরকারে কাছে, এমন প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।
তিস্তা নদীর অববাহিকায় উত্তরাঞ্চলের ০৮টি জেলার ১৭০ কিলোমিটার জুড়ে সোয়া কোটি মানুষের বসবাস।তিস্তা নদীর উজানে ভারত একাধিক বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে একতরফা পানি পত্যাহার করে নেয়,এরফলে বাংলাদেশ অংশে শুস্ক মৌসুমে ৮ টি জেলার ১৭০ কিলোমিটার নদী শুকিয়ে ধুঁ ধুঁ বালুচরে রুপান্তরিত হয়েছে,হাজার হাজার একর ফসলি জমি চাষাবাদে অনুপোযোগী,পাশাপাশি এই অঞ্চলের জীব বৈচিত্র মারাত্মক হুমকীতে পড়েছে,এরপরে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হচ্ছে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ভারত ছেড়ে দেওয়ার কারনে উত্তরাঞ্চলের ০৮টি জেলায় অকাল বন্যায় হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট,নদী তীরবর্তী হাজার হাজার বসত বাড়ি ভেসে গিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।এভাবেই কয়ক দশক ধরে তিস্তা পাড়ের মানুষ জীবন সংগ্রামে বিপর্যস্ত।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ বার বার তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবী করে কুটনৈতিক ভাবে ব্যার্থ হয়।ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনিতীর অজুহাতে তিস্তা নদীর পানি দিতে ব্যার্থ হলে, ২০১০ সালে তিস্তা নদী ঘিরে মহাপরিকল্পনার চিন্তা করে সরকার।
২০১৬ সালের সেপ্টম্বরে চীনের সাথে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিক ভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়।২০১৯ সালে চীনের 'পাওয়ার চায়না' কোম্পানি সমীক্ষা শেষ করে একটি প্রকল্প তৈরী করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেয়। ৮৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি চুক্তি স্বাক্ষর হলে ২০২০ সালে কাজ শুরু করে ২০২৫ সালে শেষ হবার কথা ছিল।চায়না পওয়ার কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও ঋন প্রাপ্তির জটিলতা এবং ভারতের বাঁধার মুখে সেটি আলোর মুখ দেখেনি।ভু-রাজনৈতিক জটিলতায় তিস্তা মহা পরিকল্পনা মুখ থুবরে পড়ে।
০৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তন হলে অন্তর্বতী সরকার তিস্তা নদী ঘিরে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৌড় ঝাঁপ শুরু করে,তারা প্রতিশ্রুতি দেয় ডিসেম্বর ২০২৫'র মধ্যে তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করবে সরকার।১২ হাজার কোটি টাকায় ১০ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নিয়ে চিনের সাথে সরকারের প্রাথমিক আলোচনা হয়।যার প্রথম ভাগে ৫ বছর মেয়াদী ৯১৫০ কোটি টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে,প্রকল্পের অর্থ ৬৭০০কোটি টাকা চীনের কাছে ঋন নেওয়া হবে,২৪১৫ কোটি টাকা সরকার ব্যায় করবে।
গত ১৯ জানুয়ারী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা রেজওয়ানা হক এবং চীনা রাষ্ট্র দুত তিস্তা পাড়ে পরিদর্শনে এসে সংবাদ মাধ্যম কে জানান, তিস্তা প্রকল্প চীনে পাঠানো হয়েছে সম্ভাব্য যাচাই শেষে এবছর কাজ শুরু করা হবে।প্রকল্পের ঋনের অর্থ ছাড়ে চীন ধীরগতিতে আগাচ্ছে, তাদের মনোভাব নতুন সরকারের সাথে তারা এটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
তিস্তা পাড়ের মানুষ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের লাল ফিতের দৌড়ে আস্থাহীনতায় ভু্ঁগছে দীর্ঘ দিন,আস্থাহীনতা থেকে নদী পাড়ের মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে "জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই" আন্দোলনের রুপ দেয় নিজেরাই। গতবছর ১৭ এবং ১৮ই ফেব্রুয়ারী তিস্তা পাড়ের ১৭০ কিলোমিটার জুড়ে তিস্তা পাড়ের মানুষ নদী তীরে অবস্থান নেয়,লক্ষ লক্ষ মানুষ আন্দোলনে অংশগ্রহন করে।
আন্দোলনটি শেষমেষ বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসুচীতে রুপ নেয়,সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া,তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেন, এই আন্দোলনে মুখ্য ভুমিকা রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমান সরকারের দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক এবং আন্দোলন কারী দল এবার যেহেতু সরকারে রয়েছে তাই তিস্তা পাড়ের মানুষ আশাবাদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে এবার।
ত্রান ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দুদিনের লালমনিরহাট সফরে এসে সাংবাদিক দের জানান,তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে,ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনে তিনটি মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন