বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রেল দুর্ঘটনা থেকে রক্ষায় বিরামপুরের এনামুলকে সংবর্ধনা
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার এনামুল হকের বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন রক্ষা পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেল ও রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে অসামান্য ভূমিকা রাখায় উপজেলার পূর্ব চন্ডিপুরের মোঃ এনামুল হককে পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
২৪ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) এর কার্যালয়ে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই সাথে তার সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা শেষে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ।
উল্লেখ্য যে, মোঃ এনামুল হক ২৩ মার্চ সকাল ৬ঃ৫০ মিনিটে, বিরামপুর-ফুলবাড়ী রেল লাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় রেলওয়ের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ নম্বর মাইলপোস্টের মাঝামাঝি অংশে রেল জয়েন্টে রেলের উপরিভাগ (হেড) প্রায় ৭ ইঞ্চি ভাঙা দেখে দুর্ঘটনা এড়াতে লাল সিগন্যাল প্রদর্শন করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেন।
দূরে ট্রেনের হুইসেল বাজছিল, ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তিনি আশপাশে খুঁজতে থাকেন লাল রঙের কাপড়।
লাল কাপড় না পেয়ে দৌড়ে রেললাইনের পাশের কলা খেতে লাল রঙের বড় খোসা খুলে বাশের লাঠির মাথায় দড়ি দিয়ে বেধে লাল নিশানের মতো সংকেত দিতে থাকেন ।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে দক্ষিণ দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রেন লাল নিশান দেখে থেমে যায়। এনামুল হকের এমন বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ট্রেনটি।
নিরাপদ ট্রেন চলাচলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সহযোগিতা করে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে একজন সুনাগরিকের দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশ রেলওয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করে।
রাজশাহী রেল ভবনে উক্ত আয়োজনে প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) আহম্মদ হোসেন মাসুম, অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান, রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এনামুল হককে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নমুনা হিসাবে একটি ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ ও আর্থিক সম্মানী প্রদান করা হয়।
এলামুল হক বুদ্ধিমত্তায় রেল দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন রক্ষায় বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্মানিত করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। পূর্ব চন্ডিপুর বাসিন্দারা বলেন নিজ অবস্থান থেকে ভাল কাজের সামিল হন। পেশায় রাজমিস্ত্রী এলামুল হক ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতে পড়েন বলে জানিয়েছে ভবন নির্মাতা।
ভবন নির্মাতা জানান, এনামুল হক নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় নামাজের সময়টুকু পুশিয়ে দিতে দুপুরের আহার না করেই নির্মাণ কাজে লেগে পড়তেই। এমন চিত্র আমাদের প্রতিবেদক মোরশেদ মানিকের চোখে পড়ে, বাসায় নির্মাণ কাজে এনামুল হক আসলে নামাজের সময় গৃহকর্তাদের পুষিয়ে দিতে আহার না করেই কাজ শুরু করার বিষয়টি দেখে সাংবাদিক মোরশেদ মানিক দুপুরে কাজের বিরতি দিয়ে এই মহান ব্যক্তির সাথে কয়েকদিন আহার করেছেন, কাজ শেষে খেয়েছেন চা-বিস্কুট। নির্মাণ শ্রমিক এনামুল হক দুপুরে খুদাত্ত অবস্থায় বাড়িওয়ালাদের কাজ যাতে কম না হয়, সে জন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ শেষে সাথে সাথে কাজে লেগে পড়তেন। সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্টি ও বাড়িওয়ালাদের খুশি রাখতে পারা এনামুল হকের মত নিবেদিত নির্মাণ শ্রমিক খুজে পাওয়া হবে বিরল ঘটনা।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন