রাজারহাটে মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ফরকেরহাট বাজারে মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, বাজারের মাংস বিক্রেতা আলম মিয়া (আলম কসাই) মরা গরু জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রি করতে থাকেন। বিষয়টি কয়েকজন ক্রেতার নজরে আসলে দ্রুত বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হকের নির্দেশে উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক আব্দুল লতিফ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে তার আগেই আলম মিয়া মাংস ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে জবাইকৃত গরুটি মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়।
স্যানিটারি পরিদর্শক আব্দুল লতিফ বলেন, “মরা গরুর মাংস খাওয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাই মাংসটি ধ্বংস করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত কসাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, “এ কাজ সম্পূর্ণ ঘৃণ্য ও অমানবিক। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে মরা গরুর মাংস বিক্রি কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মরা পশুর মাংস খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, জ্বর, হেপাটাইটিসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি থাকে। তাই বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত কসাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন